• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মানবতাবিরোধী অপরাধে আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

সিসি ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যু করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র।

গ্রেফতার আবুল খায়ের গোলাপ নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং গজনাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক-হানাদার বাহিনীর সহায়তায় একাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্তত ২০ নিরীহ স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালের ১৩ মার্চ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অফিসে নবীগঞ্জ উপজেলার আতানগীরি গ্রামের রইছ উল্লার স্ত্রী সুকুরি বিবি একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন আলবদর আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন। গোলাপের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দিনারপুর হাইস্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষণসহ পাশবিক অত্যাচার-নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকেল ৪টার সময় গোলাপের নেতৃত্বে একদল পাক-হানাদার বাহিনী বাদীর বসতঘরে আসলে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে দৌড় দিলে অভিযুক্ত গোলাপ তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে পাকহানাদার বাহিনীর কাছে তুলে দেয়। পাকহানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্পে তাকে (বাদীকে) ধর্ষণ করে। আসামি গোলাপও তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ওই গ্রামের আরো অনেক নিরীহ নারীকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় নীরব ও আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী ব্যক্তিদের বিচার কার্য শুরু হলে তিনি এই অভিযোগ করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক। হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মো. মোক্তাদির হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

উৎস: পরিবর্তন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ