বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: বদরগঞ্জের গা ঘেঁষে বয়ে চলেছে যমুনেশ্বরি নদী। এই নদীতে মাছ ধরতে এসেছে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রমজান আলি(৪২)।
মঙ্গলবার(৮অগাষ্ট)তার সাথে কথা হলে তিনি জানান; সেই সকাল থাকি নদীত মাছ মারোচো, এখন দোপর গড়ছে, মাছ পানু আধসেরের মতন। এখন নদীতো আর মাছ নাই বাহে !
বদরগঞ্জের খাল-বিল জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ আর নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মত রংপুরের বদরগঞ্জে দেশিয় নানা প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের খাল-বিল নদী-নালা মুক্ত জলাশয় গুলোতে মাছ শুন্য হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ অঞ্চল হতে প্রায় বিলুপ্তির পথে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা সহ নানা প্রজাতির মাছ।
গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতেও আর এসব প্রজাতির মাছ সহজে চোখে পড়েনা। দেশিয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধির হার আশংকাজনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামি দশ বছরের মধ্যে নদ-নদী খাল বিল সহ মুক্ত জলাশয় গুলো মাছ শুন্য হয়ে পড়বে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে; প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং ছোট মাছ সংরক্ষনে আইন না থাকায় নদ-নদী খালবিলের ছোট প্রজাতির মাছ আজ ঝুঁকির মধ্যে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন; নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী সংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য অফিসার রবিউল আলম পারভেজ জানান; মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ অঞ্চলে দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য বিভাগ প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টি মাধ্যমে দেশিয় মাছের অভাব পূরনে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে।