আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ভারতের রাজধানী দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে উত্তাল হয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ। দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিরোধীরা।
তুমুল প্রতিবাদের মুখে আপাতত ‘পরে আলোচনা’র কৌশল নিয়েছে শাসক দল। বিরোধীদের হই হট্টগোলের জেরে দিনের মতো মুলতুবি হয়েছে রাজ্যসভা। লোকসভার অধিবেশনও মুলতুবি হয়েছে।
এনডিটিভি জানায়, পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব সোমবার থেকে শুরু হলেও দাঙ্গা নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে সভা অচল হয়েছে।
বিরোধী সাংসদরা দিল্লি সহিংসতার ওপর আলোচনা চেয়ে উভয় কক্ষকে নোটিশ পাঠিয়েছে। এর জেরে মৃত বেড়ে হয়েছে ৪৬ জন।
রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, চারদিন ব্যাপী দিল্লির সহিংসতার সময় ঘুমিয়ে ছিল কেন্দ্রের সরকার। এ বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখুন প্রধানমন্ত্রী। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন অমিত শাহ।
ওদিকে, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের চেয়ারমেন বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, অবশ্যই এটি আলোচনার বিষয়। তাই আলোচনার সময় স্থির করব। কিন্তু আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। তারপরই আলোচনা করা যাবে।
স্পিকারও বলেন, আপাতত প্রাধান্য দেয়া উচিত আগে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানো। সেটা হলে তখন আলোচনা করা যাবে। কিন্তু বিরোধীরা তা মানেনি। হই-হট্টগোলের পাশাপাশি ওয়েলে নেমে স্লোগান-বিক্ষোভ শুরু করেন সাংসদরা। তার জেরে দিনের মতো অধিবেশন মুলতুবি করে দেন চেয়ারম্যান।
রাজ্যসভার চেয়েও এদিন বেশি বিশৃঙ্খলা হয়েছে লোকসভায়। অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে তুমুল হই হট্টগোল শুরু করেন বিরোধীরা। কিন্তু রাজ্যসভার মতোই লোকসভাতেও স্পিকার জানিয়ে দেন, এটি আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়।
তিনি বলেন, অবস্থার উন্নতির জন্য আমরা অপেক্ষা করব। তার পর আলোচনার অনুমোদন দেব। এরপরই কংগ্রেস-সহ তৃণমূল, আপ, এসপি, বিএসপি, ডিএমকে-সহ প্রায় সব বিরোধী দলের সাংসদদের হই হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।