• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন |

আম্পানের তাণ্ডবে পাঁচ জেলায় ৮ জনের মৃত্যু

সিসি ডেস্ক, ২১ মে ।। সুপার সাইক্লোন আম্পান প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের উপকূলে। শক্তিশালী এই সাইক্লোনে এখন পর্যন্ত পাঁচ জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ভোলায় রামদাসপুর চ্যানেল ৩০ যাত্রীসহ একটি ট্রলার ডুবে একজন ও চরফ্যাশনের শশীভূষণ এলাকায় গাছচাপা পড়ে ছিদ্দিক ফকির নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। পটুয়াখালীতে শিশুসহ দুজন, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরেও নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চরফ্যাশন, ভোলা ও মনপুরা থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ট্রলারডুবিতে এক ব্যক্তি মারা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকায়। ওই ব্যক্তিসহ ৩০ যাত্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসেন। এরা লক্ষ্মীপুর জেলার মজুচৌধুরী ঘাট থেকে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে ভোলায় রওনা দেন। এরপর রাজাপুর সুলতানীঘাটের কাছে এলে ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন স্রোতের টানে ভেসে যান রফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় রেণ্ডিগাছ ভেঙে মাথায় পড়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধ সিদ্দিক ফকির মারাত্মক জখম হন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ভোলার মনপুরা উপকূলের নিম্নাঞ্চলসহ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর ও চরনিজামে ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

আম্পানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে সাতক্ষীরায়। সাতক্ষীরা শহরের কামাননগর এলাকায় ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে গাছের ডাল ভেঙে করিমন বিবি (৪০) নামের এক নারী মারা গেছেন।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামে বুধবার রাতে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের ওপর গাছ পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- ওই গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী খ্যান্ত বেগম(৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩)।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- কলাপাড়া উপজেলার লোন্দা এলাকার সিপিপির দলনেতা শাহ আলম মীর (৫০) ও গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকার ৫ বছরের শিশু রাশেদ।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বলেশ্বর নদীর অন্তত ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির সবজি ও অন্যান্য ফসল ভেসে গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাঝেরচরের বেড়িবাঁধ ভেঙে হুহু করে এখন বলেশ্বর নদীর বৃদ্ধি পাওয়া পানি ঢুকে পড়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সেখানের অন্তত দেড় হাজার মানুষ। সেখানে মঠবাড়িয়া পৌরসভার নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওয়াল ভেঙে শাহজাহান মোল্লা (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে তিনি ওই ওয়ালের পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ