সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (৪০ দিন) কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্মসূচিতে গ্রাম পুলিশের সদস্য ও ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার এমন কেউ আছেন যে তিনি জানেন না তার নাম এ কর্মসূচীতে আছে। এছাড়া এ কর্মসূচীর অনেকেই অবার সরকারি অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করছে। ইউপি চেয়ারম্যান এবং শ্রমিক সরদারের স্বজনপ্রীতি ও যোগসাজশে কর্মসূচির কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে ২০১৮ সাল থেকে ৫ টি দলে ১৯৮ জন শ্রমিকের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে মানিক ও গুলজার নামের দু’জন গ্রাম পুলিশ রয়েছে যারা কোন কাজ না করেই নিয়মিত টাকা উত্তোলন করছেন। এছাড়া ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সুবিধাভোগকারী ধলাগাছ মাঝপাড়ার মমিনুলের স্ত্রী সেফালী, একই গ্রামের সরদারপাড়ার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী বেলী এবং সামেদুল এ কর্মসূচিটির আওতায় কাজ করছে। বর্তমানে ইউনিয়নটিতে দুটি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে ৪ টি দল ধলাগাছের আবাসন ও অন্যটি একটি দল চিকলির মসজিদের মাটি কাটার কাজ করছে।
সরেজমিন ওই আবাসন প্রকল্পে গিয়ে ৪টি দলে ১৫৬ জন শ্রমিকের বদলে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জনকে কাজ করতে দেখা গেছে ।
অন্যান্য ইউনিয়নের চিত্রও একই রকম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিক সরদার ও চেয়ারম্যান পরস্পর যোগসাজশে কাজে ফাঁকি দিয়ে বিল উত্তোলন করার চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক বলেন, আমরা সারাদিন গতরে খাটি আর অনেকেই কাজ না করেই টাকা তুলছে।
এ বিষয়ে কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান বলেন,যে দু’জন গ্রাম পুলিশ ওই কর্মসূচীতে আছে তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে । আর অন্যান্য সুবিধাভোগকারী যারা আছে যাচাই-বাছাই করে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মিথু কাজের অনিয়মের বিষয় সম্পর্কে বলেন , বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম হলে বিল স্থগিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী নাসিম আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেসব শ্রমিক কাজ করছেন শুধু তারাই বিল পাবে।