• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন |

যবিপ্রবির ল্যাবে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়েছে। ১৬ জন ভারত ফেরত রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জন রোগীর করোনা পজিটিভ আসে।

পজিটিভ তিনজনের মধ্যে দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৬ মে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে তাদের নমুনাসমূহ যবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়।

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে গতকাল শুক্রবার রাতে সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক সিকোয়েন্সির মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় এ ধরণ শনাক্ত করেন।

গবেষণাটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন যবিপ্রবির ভিসি ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। ইতিমধ্যে ভারতীয় ধরণ শনাক্তের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর ও যশোরের স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

যবিপ্রবির গবেষক দলটি জানান, B1.617.2 নামের ধরণটি জিনোম সেন্টারে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ধরণটি বর্তমানে ২০ শতাংশ মোট ভারতীয়দের মধ্যে বিদ্যামান। এ ছাড়া ভারতীয় এ ধরণটি ৫৯ শতাংশ যুক্তরাজ্যের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে। ভারতীয় এ ধরণটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমনের সক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন পরবর্তী ‘সেরাম এবং মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ এ ধরণকে কম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে।

গবেষক দলটি ভারত থেকে আগত সবাইকে পরপর দুইবার করোনা নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত রোগীরা যে সকল ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে, তাদের অতিদ্রুত পরীক্ষা করা আবশ্যিক বলে মনে করে গবেষক দলটি।

এ ছাড়া ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হওয়ায় সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো কারণে চালক ও সহকারীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন।

যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে বৃহস্পতিবার ১৫তম দিনে তিন জেলার ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ২৮টি নমুনা পরীক্ষা করে আটজন, যশোরের ১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন এবং মাগুরার ১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে সবমিলিয়ে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ১৪ দিনে ১৩৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ জন যশোরের রোগী। এছাড়া ঝিনাইদহে ৩৬ জন, চুয়াডাঙ্গার ২০ জন, নড়াইলে ১২ জন, কুষ্টিয়ায় চারজন, মাগুরার ছয়জন ও মেহেরপুরে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যবিপ্রবিতে করোনা শনাক্তে সাত জেলার মানুষের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

যবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হওয়ার ফলে জরুরি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত: আইইডিসিআর:
প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর আজ জানিয়েছে, দেশেই করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। চার করোনা রোগীর দেহে ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়।

বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২৮শে এপ্রিল এ তথ্য জানিয়েছে। করোনার ভারতীয় ধরনটি ‘বি.১.১৬৭’ নামে পরিচিত। করোনার এ ধরনকে অতি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ ধরন ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ