• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন |

আফগানিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কাবুলে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরা। আজ সোমবার সকালে কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন আল–জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কাউকে বিমানবন্দরে না আসতে অনুরোধ করেছে। লুটপাট ও অপহরণ ঠেকাতে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে। এমন একটি বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের ১০টি প্রদেশে প্রায় ৩ হাজার কর্মীর মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশিসহ প্রবাসী ১৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিসহ ৫ জন ছুটিতে দেশটির বাইরে ছিলেন, তাদের আফগানিস্তান ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কাবুলে থাকা নয়জন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন গত শুক্রবার বিমানযোগে রওনা দিয়েছেন এবং বাকি ৬ জনের আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনায় আজ সকালে বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করার পর বাংলাদেশিদের ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আফগানিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম একই সঙ্গে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তানে ও কিরগিজস্তানের দায়িত্বে আছেন। তিনি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ব্র্যাকের ছয় কর্মী সংস্থার আবাসিক পরিচালকের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। জাহাঙ্গীর জানান, কাবুলে আর কেউ আছে কি–না সেটি ব্র‍্যাকের মাধ্যমে জানা চেষ্টা করেছি। অন্য শহরগুলো থেকে কেউ কোনো তথ্য জানায়নি। এরই মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য দুটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় +৯৯৮-৯৯৯১১৯১০২ এবং +৯৯৮-৯৭৪৪০২২০১ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও জানিয়েছিলেন, তিনজন বাংলাদেশি আফগানিস্তানে কারাগারে বন্দী ছিলেন, তালেবান যোদ্ধারা সেখানে ঢুকে পড়ার পর অনেকেই পালাতে সক্ষম হন। ছাড়া পেয়ে বন্দী এক বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

ব্র‍্যাকের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদ এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৩ আগস্ট আফগানিস্তানের থাকা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়, ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমিউনিটির উন্নয়ন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সহায়তা, মানবিক সহায়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল। এখন পরবর্তী করণীয় নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখার প্রধান রাফে সাদনান আদেল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ