সিসি নিউজ ।। বগি সংকটের কারণে চিলাহাটি-রাজশাহী রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছে। এ রুটে ১৩টি বগি নিয়ে চলাচলকারী ‘তিতুমীর এক্সপ্রেস’ ৮টি এবং ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’ ৭টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে সহস্রাধিক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ভিন্ন পথে গন্তব্যে যাচ্ছে। প্রতিদিন যাত্রীরা চরম হয়রানীর শিকার হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বগি সংকট নিরসনে কোন উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চিলাহাটি স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, করোনা শুরুর আগে প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেন ১৩টি বগি নিয়ে চিলাহাটি-রাজশাহী রুটে চলাচল করতো। এতে উভয় ট্রেনে ২৭ শত যাত্রী পরিবহন করা হয়। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে তিতুমীর এক্সপ্রেসের ৫টি এবং বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের ৬টি বগি ড্যামেজ হওয়ায় ট্রেনের বহর থেকে বগিগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। সর্বশেষ গত সোমবার থেকে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের শোভন চেয়ারের চ-৫১২৪ বগিটি ড্যামেজ হয়ে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে পড়ে রয়েছে।
নীলফামারী সদরের দারোয়ানী এলাকার ময়নুল ইসলাম জানান, ৪ ও ৫ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়ের ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। নীলফামারী স্টেশনে গিয়ে টিকিট পাইনি। কর্তৃপক্ষ বলছে ট্রেনে বগি কম, তাই টিকিট সংখ্যাও কম। অনলাইনে আগেই টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। মেয়েকে নিয়ে কিভাবে রাজশাহী যাবো তাই নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। তিনি বলেন, ২ অক্টোবর রংপুরে ভর্তি পরীক্ষা থাকায় আগেভাগে রাজশাহীও যেতে পারছিনা।
ডোমার উপজেলার চিকনমাটি গ্রামের এরশাদুল আলম জানান, ট্রেনেই রাজশাহী যাবো মেয়ে ও ভাগিনাকে নিয়ে। কিন্তু অনলাইনে সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। রোববার (৩ অক্টোবর) বরেন্দ্র ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় আরও সমস্যায় পড়েছি। বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি রাজশাহীগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের দাবি জানান। কারণ ট্রেন ছাড়া রাজশাহী যাওয়া অন্য কোন সহজ পথ নেই।
বগি সংকটের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ জানান, করোনাকালীন সময়ে ড্যামেজ বগিগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে চলাচল উপযোগি বগি দিয়ে বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের সাথে সম্বন্বয় করা হয়েছে। তবে এ সংকট দূর করতে রেলওয়ে কাজ শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কারণে ট্রেন ভ্রমনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে চিলাহাটি-রাজশাহী রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে বলে জানান তিনি।