• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন |

টিপু ও প্রীতি হত্যা: খুনের বিনিময়ে ৫ মামলা থেকে অব্যাহতির চুক্তি

সিসি নিউজ ডেস্ক।। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতিকে পিস্তল দিয়ে নিজেই গুলি করেন শুটার মাসুম। মাসুমের নামে পাঁচটি মামলা আছে। এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেতেই টিপু হত্যার বায়না নিয়েছিলেন বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মাসুম।

জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতিকে হত্যার দায় স্বীকার করে দেওয়া এ জবানবন্দিতে উঠে এসেছে আরও নানা তথ্য। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন শুটার মাসুম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাসুম স্বীকারোক্তিতে আদালতকে জানিয়েছেন কিলিং মিশনের অন্তত দেড় থেকে দুই মাস আগে দক্ষিণ কমলাপুরের রূপালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (রূপালী ক্লাবে) বসে টিপু হত্যার মূল বৈঠক করা হয়েছিল। বৈঠকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও ফ্রিডম মানিকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন দুবাইয়ে পলাতক ও বোচা বাবু হত্যা মামলার আসামি মুসা। ছিলেন শামীম, মোল্লা মানিক, ফারুক, দামাল, মারুফসহ আরও কয়েকজন। মুসা বৈঠক শেষে শুটার ঠিক করার দায়িত্ব দেন শামীমকে। শামীমই মাসুমকে টিপু হত্যার মিশনে যুক্ত করেন।

এর আগে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাসুমকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ ওরফে শুটার মাসুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক। এ কারণে তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। পরে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন তাঁর খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

মাসুম আদালতকে বলেন, রূপালী ক্লাবের ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে ওই বৈঠকেই টিপুকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি শামীমের কাছে শুনেছেন। তারপর শামীমই তাঁকে জানান, ‘বড় ভাই (মুসা) বলছে টিপুকে শেষ করে দিতে হবে। টিপুকে মারতে পারলে মাসুমের ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তি, যাবতীয় খরচ ও পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধা দেখা হবে।’

মাসুম আরও বলেন, এলাকায় শেয়ারে ডিশ ব্যবসা করতেন তিনি। সেখান থেকে যা আসত, তা দিয়ে তাঁর সংসার ও মামলার খরচ মেটানো সম্ভব ছিল না। মামলা ও গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিনিয়ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হতো। শুধু তাঁর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। সব দিক বিবেচনা করে টিপুকে হত্যা করতে রাজি হন মাসুম। কিলিং মিশনের আগে মাসুমকে ঢাকার সিএমএম কোর্টে নিয়ে যান শামীম। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন মুসা। পরে এক আইনজীবীর উপস্থিতিতে মাসুমের নামে থাকা পাঁচটি মামলা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার জন্য চুক্তি হয়। কিলিং মিশন সফল হলেই মাসুমকে মামলা নিষ্পত্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা দেওয়ার আগেই গ্রেপ্তার হন তিনি।

জবানবন্দিতে মাসুম আরও বলেন, ঘটনার আগের দিনও টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনার দিন শাহজাহানপুর ইসলামী হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে গুলি করলে টিপু এবং তাঁর ড্রাইভার দুজন আহত হন। একটি গুলি রিকশারোহী এক মেয়ের গায়ে লাগে। তবে অন্য কেউ আরও গুলি করেছিল কি না, সে বিষয়ে মাসুম কী বলেছে তা জানা যায়নি। ঘটনাস্থল রেকি করায় কয়েকজন ছিল মাসুম বলেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহিদুল ইসলাম টিপু মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুর আমতলা হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে জাহিদুল ও তাঁর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহিদুল ইসলাম টিপু মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুর আমতলা হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে জাহিদুল ও তাঁর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরের দিন ২৫ মার্চ দুপুরে জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২৭ মার্চ বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুমকে। পরদিন ২৮ মার্চ তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এই মামলায় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির, সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আরফান উল্লাহ দামালকে গত ৩ এপ্রিল পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আজ জবানবন্দির পর মাসুমকেও কারাগারে পাঠানো হয়। উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ