• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন |

মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু

সিসি নিউজ।। বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম ও ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বুধবার(১জুন) সকালে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

ভারতের নয়াদিল্লির স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটির ভার্চ্যুয়াল ‘ফ্ল্যাগ অফ’ করেন দুই দেশের রেলমন্ত্রী।

বাংলাদেশের চিলাহাটি স্টেশনে মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি পৌঁছায় দুপুর ২ টা ০৫ মিনিটে। ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছানো সাথে রেল কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ভারত-বাংলাদেশের যৌথ পতাকা দিয়ে স্বাগত জানায়। পরে প্রায় ৩০ মিনিট যাত্রা বিরতি করে চিলাহাটি স্টেশনে আগে থেকে অবস্থান করা ইঞ্জিন পরিবর্তন করে স্টেশন ত্যাগ করে মিতালি এক্সপ্রেস।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও চিলাহাটি স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার ব্যবস্থা না থাকায় এখন এই ট্রেনের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না আশপাশের এলাকার মানুষ। তাই অঞ্চলের মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনার চেয়ে হতাশা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

তবে সকাল থেকে অনেকেই মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেছেন চিলাহাটি স্টেশন এলাকায়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ ট্রেনটি ছুঁয়ে দেখছেন, কেউবা তুলেছেন ট্রেনের সাথে সেলফি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার বলেন, আজ থেকে মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করল। আপাতত চিলাহাটি স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করার সুযোগ নেই। তবে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে এই স্টেশন থেকে ইমিগ্রেশনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।

এদিকে মিতালী এক্সপ্রেস উদ্বোধনের পর টুইট করেছেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি তাঁর টুইটে এ পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যের পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে ভাগ করে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।

সূত্র মতে, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটির পরিচালন সময় ৯ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। ট্রেনটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের জলপাইগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন চলাচল করবে। ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এনজিপির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। আর প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার ভারতের এনজিপি থেকে ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া করসহ প্রতিটি এসিবাথ সিটের ৫ হাজার ২৫৫ টাকা, এসি সিটের ৩ হাজার ৪২০ টাকা এবং এসি চেয়ার ২ হাজার ৭৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেনটি দিনে ৪৫৬ আসন এবং রাতে ৪০৮ আসন নিয়ে চলাচল করবে।

ভারতের জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) থেকে ঢাকার মোট দূরত্ব ৫৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতীয় অংশে ৮৪ ও বাংলাদেশ অংশে ৪৪৬ কিলোমিটার। তবে কোনো স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য থামবে না। যারা এ ট্রেনের যাত্রী হবেন তারা ঢাকায় উঠে নামবেন জলপাইগুড়ি। আবার যেসব যাত্রী জলপাইগুড়ি থেকে এই ট্রেনে উঠবেন তারা নামতে পারবেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের চিলাহাটি আর ভারতের হলদিবাড়ি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মালবাহী ট্রেন এবং ২০২১ সালের ২৭ মার্চ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকে মালবাহী ট্রেন চলাচল করলেও করোনাভাইরাস ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ