সিসি নিউজ।। ডোবা কিংবা জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের নীলফামারী ও দিনাজপুর সেচ নালায় পাটজাগ দেয়ার হিড়িক পড়েছে। এতে সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা নালার দু’পাশের মাটি কেটে পাটজাগ দেয়ার ফলে ভরাট হয়ে যাচ্ছে খালের তলদেশ। এতে আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে ওইসব নালা দিয়ে সেচের পানি প্রবাহের ব্যাঘাত ঘটবে এমন আশঙ্কা করছে স্থানীয় ধান চাষীরা।
নীলফামারী পানি উন্নয়ণ বোর্ড সূত্র মতে, উত্তরের জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, লালমনিরহাট ও বগুড়ার ৩৫টি উপজেলার সাড়ে ৫ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার জন্য ১৯৮৯ সালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত হয় তিস্তা ব্যারেজ। প্রকল্পের ৪১ কিলোমিটার দিনাজপুর প্রধান নালাটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করা হলেও সংস্কার করা হয়নি আজ পর্যন্ত। সেচ নালাটি প্রতিবছর পাটের মৌসুমে ভরাট হয়ে পাট চাষীদের পাটজাগ দিয়ে। পাট চাষীরা সেচনালার পাড়ের এবং বাইরে থেকে আনা মাটি দিয়ে পাটজাগ দেয়ায় এর তলদেশ পাটজাগে ব্যবহৃত মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের পানি প্রবাহের ব্যাঘাত ঘটবে এমন আশঙ্কা ধানচাষীরা।
নীলফামারী সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের কৃষক মহির উদ্দিন জানান, শাখা নালা তৈরীর পর থেকে এখন পর্যন্ত সংস্কার না করায় নালাটি কোথাও উঁচু আবার কোথাও নীচু হয়ে গেছে। পাটজাগ দেয়ায় ও মাছ শিকারের জন্য মাঝে মাঝে ছোট ছোট বাঁধ দেয়ার ফলে সেচের জন্য পানি সঠিক ভাবে আমাদের জমিতে আসে না। বাধ্য হয়ে ইরি-বোরো মৌসুমে অগভীর নলকূপের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্ধারিত বাৎসরিক টাকা ঠিকই জমা দিতে হয়।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার লালদীঘি গ্রামের মকবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে বর্ষার পানি জমেনি। ছোট ছোট ডোবাগুলো শুকিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে তিস্তা নালায় পাটজাগ দিয়েছি। সঠিক সময়ে পাটজাগ না দিলে গাছগুলো শুকিয়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার মতো অনেক পাটচাষী।
নীলফামারী পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার জানান, তিস্তা সেচ নালায় পাটজাগ দেয়ার কোন অনুমতি না থাকলেও যে পরিমান পাটজাগ দেয়া হয় তাতে পানি প্রবাহের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। এছাড়া চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত না হওয়ায় সেচনালায় পাটজাগ দেয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, নালায় পাটজাগ দিতে গিয়ে কৃষকরা যেন নালার পাড়ের মাটি না কাটে সেজন্য পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যদের দেখভাল করার বিষয়টি জানানো হয়েছে।