• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্যের সিপাই গ্রেপ্তার

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং নিজ হেফাজতে নিয়ে আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নীলফামারী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাই মেহেদী হাসানকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে সৈয়দপুর থানার অফিস কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসানের বাড়ি দিনাজপুর সদরের শিবপুর মোল্লাপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার হবিবর রহমানের ছেলে। এতে অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্য নীলফামারী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাই মেহেদী হাসান (৩২) রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আর এ ঘটনাটি যেন “বেড়ায় ক্ষেত খায়” এর মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে নীলফামারীর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা গোপন সূত্রে মাদকের বড় একটি চালান আসার খবর পেয়ে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের কামারপুকুর এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা সৈয়দপুর – রংপুর মহাসড়ক হয়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী নাবিল পরিবহনের একটি কোচে (নম্বর: ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৪১৯১)অভিযান চালিয়ে কোচের একই টিকিটে দুইটি আসনের (নম্বর: ই – ৩ ও ৪) দুই যাত্রীকে তল্লাশ করে। এর মধ্যে আব্দুর রহিম নামের একজনের দেহ তল্লাশি করে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার ও তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে বেলা সোয়া একটার দিকে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া ১৫টি স্বর্ণের বার স্থানীয় সৈয়দপুর গোল্ড হল মার্ক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর বিকেলে আটক হওয়া কোচটির অপর যাত্রী মোহাম্মদ উল্লাহ্ কাছ থেকে আরো পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়েছে বলে জানায় মাদকদ্রব্য অভিযান পরিচালনাকারী দল।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়ার পাঁচটি সোনার বার বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে সৈয়দপুর গোল্ড হল মার্ক সেন্টারে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। আর উদ্ধারকৃত প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১০ ভরি এবং ২০টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ২০০ ভরি। দুই দফায় উদ্ধারকৃত সোনার বারগুলো পরীক্ষায় ২৪ ক্যারেটের এবং যার মূল্য এক কোটি ৯০ লাখ টাকা উল্লেখপূর্বক আটককৃতদের আসামী করে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ১০ মিনিটে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নীলফামারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় ওই মামলাটি দায়ের করেন।

একই কোচ থেকে দুই যাত্রী একই সময়ে আটক হলেও দুই দফায় স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং সংখ্যায় কমবেশি দেখানোর ঘটনার ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সংবাদকর্মীসহ স্থানীয় জনমনেও তীব্র সন্দেহ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “সিসি নিউজ”-এ “সৈয়দপুরে দুই কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল” শিরোনামে একটি খবর ফলাও করে প্রকাশিত হয়।

এদিকে, মামলা দায়ের পর সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। মামলা তদন্তে গিয়ে পুলিশ ওই দিনের স্বর্ণের বার উদ্ধারের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। আর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে গত ১১ ফেব্রæয়ারি মাদক বিরোধী অভিযানিক দলের একজন সদস্য হিসেবে সেখানে দায়িত্বরত অবস্থায় ছিলেন নীলফামারী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাই মেহেদী হাাসন। আর অভিযানকালে দূরপাল্লার নাবিল পরিবহনের একটি কোচ থেকে আটককৃত আব্দুর রহিমের দেহ তল্লাশি করে ১৫টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওই সময় আটককৃত কোচের অপর যাত্রী মোহাম্মদ উল্লাহ্ দেহ তল্লাশি করে কোন সোনার বার উদ্ধার হয়নি।

এ অবস্থায় অভিযানিক দল আটককৃত দুই আসামী আব্দুর রহিম ও মোহাম্মদ উল্ল্যাহকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সরকারি গাড়িতে বসিয়ে রেখে পাহাড়া দেওয়ার জন্য সিপাই তথা গাড়ীর চালক মেহেদী হাসানের হেফাজতে দেন। এ সময় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অন্যান্য সদস্যরা সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়ানো বাসে তল্লাশি পরিচালনা করতে থাকেন। আর এই সুযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাই তথা গাড়ী চালক মেহেদী হাসান কোচ থেকে আটককৃত মোহাম্মদ উল্লাহ্ দেহ তল্লাশি করে ১০টি সোনার বার উদ্ধার করে নিজের কাছে রেখে দেন।

এ সময় সিপাই মেহেদেী হাসান আটককৃত আসামীদের বলেন, ১০টি সোনার বারে কথা কাউকেই বলা যাবে না এবং মালামাল বেশি দেখানো হলে মামলা কঠিন হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, “স্বর্ণ যত কম, শাস্তি তত কম” হবে। এ সব নানা রকম কথা বলে গ্রেপ্তারকৃতদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখান তিনি (মেহেদী হাসান)।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, উদ্ধার অভিযানের সদস্য হিসেবে স্বর্ণের বার আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নীলফামারী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাই মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ সোমবার গ্রেপ্তারকৃত আসামী মেহেদী হাসানকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এদিকে ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ