• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

মুমূর্ষু রোগীর পাশে হৃদয়ে সৈয়দপুর

সিসি নিউজ।। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না  . . . ও বন্ধু। ভারতীয় বিখ্যাত গায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ভূপেন হাজারিকার একটি বিখ্যাত গানের কলিগুলোকে উপজীব্য করে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংস্থা হৃদয়ে সৈয়দপুরের সদস্যরা। এবারে সংগঠনটির দুইজন সদস্য শরীরের রক্ত দিয়ে একজন মুমূর্ষূ রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন। সংগঠনের যে দুইজন সদস্য রক্তদান করেছেন তাদের একজন ইসলাম ও অন্যজন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বুদ্ধিরবাজার এলাকার গৃহবধূ মহছেনা বেগম (৪৫)। তাঁর শরীরে রক্তের অভাবে হচ্ছে না টিউমার অপারেশন। এ অবস্থায় পাশের গ্রামের তরুণী সালপিয়া আক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে তিনি (সালপিয়া) বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন হৃদয়ে সৈয়দপুরের সদস্যদের অবগত করেন। ঠিক এর দুই ঘন্টার মধ্যে দুইজন (‘ও’ পজেটিভ)  রক্তদাতা সংগ্রহ হয়। আর ওই রক্তদাতা দুইজনের মধ্যে একজন হলেন হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠনের বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ইমরুল কায়েস এবং অন্যজন সংগঠনটির কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম- সম্পাদক বিদুৎ নাথ অধিকারী।
তারা দুইজন জানান, সংগঠনের ডাকে একজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়েছি। এতে খুব ভাল লাগছে। বিদ্যূৎ নাথ অধিকারী আরো জানান আমি একজন সনাতন হিন্দু ধর্মের মানুষ হয়েও একজন মুসলিম বৃদ্ধার শরীরে রক্ত দিতে পেরেছি। নিজেকে খুব আনন্দ লাগছে।
হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল জানান, হৃদয়ে সৈয়দপুর একটি স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের  সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৫০ জনেরও বেশি। প্রতিটি সদস্য নিয়মিত রক্তদাতা এবং অন্য তরুণ তরুণীদেরও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করছেন।  তিনি আরো জানান,আমাদের সংগঠন থেকে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, মাদক ও  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সেমিনার, শীতবস্ত্র বিতরণ, টিউবওয়েল স্থাপন, স্কুলব্যাগ বিতরণ,বৃক্ষ রোপন, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, শহরে ডাস্টবিন স্থাপন,পথের পাঠাগার স্থাপন, গাছে গাছে কলস বেঁধে পাখিদের নিরাপদ আবাসন গড়া, শব্দ দূষণে জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম করে আসছেন তারা।
স্থানীয় একজন চিকিৎসক জানান, “রক্ত” মানব শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।  যে কোন দুর্ঘটনায় কিংবা দেহের অভ্যন্তরে কোন অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের খুব প্রয়োজন। প্রসবজনিত কিংবা অন্যান্য জটিল অপারেশনের সময় বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো নাজুক অবস্থাতেও রক্ত দেয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে রক্ত সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে অনেক রোগী পরপারে পাড়ি জমান। কিন্তু চাইলেই একজন সুস্থ সবল মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করে একটি প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসতে পারেন। এ পৃথিবীতে রক্তদানের মতো মহৎ কাজ খুব কমই রয়েছে।
তিনি আরো জানান, উন্নত  দেশগুলোতে প্রতি হাজারে প্রায় ৪৩ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি হাজারে রক্তদাতার সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে কিছু উদ্যমী তরুণের নিরলস পরিশ্রমের ফলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
তেমনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক  সংগঠন হৃদয়ে সৈয়দপুর এর সদস্যরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগীদের রক্তদান করা ও রক্ত সংগ্রহের কাজটি করে আসছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ