• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন |

নির্বাচনে অনিয়ম হলে প্রয়োজনে ভোট বন্ধ: সিইসি

সিসি নিউজ ডেস্ক।। নির্বাচনে অনিয়ম হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সিইসি বলেন, কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশিশক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব প্রকারের নির্বাচনী অনিয়ম-অনাচার প্রতিহত করার আহ্বান জানান হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ইসি। উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন কেবল ভোটগ্রহণ শুরুর অপেক্ষা। তিনি সবাইকে নিশ্চিতে ভোট দিতে আসার আহ্বান জানান।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, নাশকতা ও সহিংসতার সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। তারপরও আমরা জনগণকে অনুরোধ করছি, আপনারা সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পরাভূত করে নির্ভয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিগত প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে এবারের নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না। নির্বাচনী  সার্বজনীনতা প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। তারপরও ২৮টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। মোট ১ হাজার ৯৭১ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও অংশগ্রহণমূলক নয় মর্মে আখ্যায়িত করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতৃত্বে মতভেদ আছে। মতভেদ থেকে সহিংসতা কাম্য নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় নাশকতা ও সহিংসতা যে একেবারেই হচ্ছে না, তা বলা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদের পাশাপাশি মানুষ আহত-নিহত হচ্ছে। চলমান এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান ও অবসান প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ বিষয়ে আন্তরিক ও উদ্যোগী হতে হবে।

কাজী হাবিবুল আউয়াল আরও বলেন, নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো সহিংস পন্থা পরিহার করে কেবল শান্তিপূর্ণ পন্থায় নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে জনমনে আস্থা সঞ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু, অবরোধ ও হরতালের মধ্যে সহিংসতা দৃশ্যমান হচ্ছে। ট্রেনে-বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। নাশকতা ও সহিংসতার সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। তারপরও আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আমরা জনগণকে অনুরোধ করছি, আপনারা সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পরাভূত করে নির্ভয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

‘অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী ও ভোটারদের নির্বাচন বিষয়ক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তাকেও আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুধাবন, প্রতিপালন ও প্রয়োগ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক বিষয়ে আরোপিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৈথিল্য, অসততা  ও ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। নির্বাচন বিষয়ক আইন ও বিধি-বিধান বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ ভোটকেন্দ্রসমূহের  পারিপার্শ্বিক শৃঙ্খলাসহ প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশিশক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ  সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে, ১৫ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ওই ভাষণে তিনি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ওইদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে তাঁর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ