• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন |

ইচ্ছেমতো চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা

সিসি নিউজ।। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় নীলফামারীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে ইচ্ছেমতো। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদানে সময়-সূচী থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টার সেবা প্রদানের ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ।

সূত্র মতে, নীলফামারী জেলায় ছয়টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ১৯৭টি। এতে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ১৯৪ জন এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) ১৮৩ পদের মধ্যে ৯৩ জন রয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপিদের সপ্তাহে ৬ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। এর সাথে ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্য সহকারীদের ৩ দিন এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের (এফডব্লিউএ) ৩ দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সূত্রটি জানান, এসব ক্লিনিকে তিন মাসের জন্য প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যান্টাসিড, হিস্টাসিন, খাওয়ার স্যালাইনসহ ২৭ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। জেলা সদরের দক্ষিন চওড়া কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা ফেন্সি বেগম জানান, ক্লিনিকে নিয়মিত ডাক্তারে আসেনা। বেলা ১১টায় আসিলেও দুপুর ১টার আগেই চলে যায়। রোগীদের সাথে দায়িত্বরতরা খারাপ আচরণ করার অভিযোগও করেন তিনি।

ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা মাহমুদা আকতার বলেন, ‘নামেই ক্লিনিক। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ সময়ই থাকে বন্ধ। ২৭ ধরনের ওষুধের কথা বলা হলেও দুই এক প্রকার ওষুধ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। সকলকেই বলে ওষুধ নাই, শেষ হইয়া গেছে। ওষুধের জন্য টাকাও নেন তারা।

এ বিষয়ে দক্ষিন চওড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রত্না রানী রায় বলেন, এখানে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী আসে। সব রোগীদের সেবা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ক্লিনিক খোলা ও বন্ধ করা হয়। রোগীর কাছ থেকে টাকার নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, রোগীর কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটি ক্লিনিকের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হয়। স্যার আমাকে নিতে বলেছে তাই নেয়া হয়। সে টাকা আবার অনেকেই দেন না।

সুখধন কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে সাধারণত সদ্দি, কাশি, জ্বর, আমাশয়, পাতলা পায়খানা এবং প্রসূতী মায়েদের চেকআপ, আয়রণ ওষুধ দিয়ে সেবা দেয়া হয়। তবে অনেক সময় ওষুধ শেষ হলে বা ওষুধ সরবরাহে দেরি হলে রোগিরা ওষুধ কম পান।

এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: হাসিবুর রহমান বলেন, সেবা গ্রহীতাদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো আমরা তদারকি করব।’ এছাড়া প্রতি মাসে আমরা ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করছি। পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ