• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন |

বিশেষ ট্রেন থেকে বঞ্চিত সৈয়দপুর

বিশেষ প্রতিনিধি।। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন পথে ৪৩টি অতিরিক্ত কোচ ও ১০টি স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অথচ রেলওয়ের শহর বলে পরিচিত নীলফামারী সৈয়দপুরসহ জেলায় নেই একটিও। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৈষম্যের শিকার এ জেলার ঘরমুখী যাত্রীরা। তাই জেলার মানুষের ভরসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন, যার টিকিট পাওয়া সোনার হরিণের চেয়ে দামি বলে জানা গেছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের ঈদে ৫ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, দেওয়ানগঞ্জ, ঢাকা, কক্সবাজার, শোলাকিয়া, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করবে।

তবে এ রুটে ঈদ স্পেশাল ট্রেন এবারও বরাদ্দ না হওয়ায় স্থানীয়দের  মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। তারা চিলাহাটি রুটে একটি স্পেশাল ট্রেন অথবা যে ট্রেনটি জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করবে সেটি চিলাহাটি পর্যন্ত পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর রেল স্টেশন থেকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী রুটে নিত্যদিন পাঁচটি আন্তঃনগর একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ঢাকা রুটে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন চলাচল করে।
ভৌগলিক দিক থেকে সৈয়দপুর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও পঞ্চগড়ে সহজেই যাতায়াত করা যায়। তাই সৈয়দপুর ছাড়াও ওইসব এলাকার লোকজন এ স্টেশন থেকে টিকেট কেটে ট্রেনে এই পথেই ঢাকা যাতায়াত করে। তাই এই রুটে যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি থাকে। সব মিলে নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর হয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করে। ঈদে তা প্রায় চারগুন হয়ে যায়।
সূত্রটি আরও জানায়,  দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখনার অবস্থান সৈয়দপুরে। ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের যে ১০টি স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে সেই ট্রেনগুলোর জন্য ১৪০টি কোচ এ কারখনা থেকেই সরবারহ করা হয়েছে। অথচ এখান থেকেই নেই কোনো স্পেশাল ট্রেন।
এ ঈদে স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ না হওয়ায়  ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী এলাকার রোখসানা পারভীন নামের এক নারী যাত্রী জানান, আমি এ পথেই নিয়মত ঢাকায় যাতায়াত করি। দেখিছি বরাবরই এ অঞ্চলের মানুষ অবহেলিত, বঞ্চিত। সেই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর থেকে ঈদের সময় ট্রেনের যাতায়াত থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। ঈদে সড়কপথে প্রচুর চাপ থাকায় অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে মানুষ ট্রেনে চলাচল করতে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রেনের বিষয়ে এ অঞ্চলকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে যা সত্যিই দুঃখজনক।’

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগশী ইউনিয়নের আতাউর রহমান নামের আরেক যাত্রী বলেন,  দেশের সব অঞ্চল ঈদের সময় বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ পেলেও নীলফামারীতে থেকে পাচ্ছে না। কেন পাচ্ছে না, এটা নিয়ে উপরমহলের কোনো মাথা ব্যথা নাই। এগুলো বৈষম্য আর কবে নিরসন হবে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সম্পাদক শেখ রোবায়তুর রহমান বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতকৃত কোচে সারা দেশে ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু দু:খের বিষয় প্রতিবারই এখান থেকে ঈদে কোনো স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়না।

সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকার বলেন, ঈদ এলে দেশের অন্যান্য রুটে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা হয়; কিন্তু এ ক্ষেত্রে সৈয়দপুর তথা নীলফামারী সবসময় উপেক্ষিত। যার ফলে এ জেলার যাত্রী সাধারণ ট্রেনের ছাদে, বাসের ছাদে, ট্রাকে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। তিনি এ বিষয়ে রেলওয়ে উপদেষ্টা ও রেলসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার  ওবাইদুল ইসলাম রতন জানান, নীলফামারীর জন্য কোনো ঈদ স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ হয়নি। এর  আগে একাধিকবার জয়দেবপুর থেকে পার্বাতীপুর পর্যন্ত যে স্পেশাল ট্রেন দেওয়া সেটি চিলাহাটি পর্যন্ত দেওয়ার জন্য   উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। ট্রেনটি চিলাহাটি পর্যন্ত দেওয়া হলে একদিকে যাত্রীদের সুবিধা অন্যদিকে রেলওয়ের আয় হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ