• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন |

ফর্সা হওয়ার প্রসাধনে ক্যান্সার

স্বাস্থ্যস্বাস্থ্য ডেস্ক: ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি-র মতো ক্রিম উপমহাদেশেও অপরিচিত নয়। এ ধরনের প্রসাধন দ্রব্যে যে হাইড্রোকুইনোন থাকে, তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো ঘানাও এবার তা নিষিদ্ধ করল।

ঘটনাটা সামান্য মনে হলেও, এর পটভূমিতে রয়েছে ঔপনিবেশিকতা, জাতিবাদ ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ‘কালো? তা সে যতই কালো হোক’ লিখে দরদ দেখিয়ে গেছেন যে মহাকবি, তিনিও জানতেন না, তিনি তথাকথিত কালো মেয়েদের কত বড় ক্ষতি করে গেছেন।

ঔপনিবেশিকতার আমল থেকেই শ্বেতাঙ্গরা প্রভু, কৃষ্ণাঙ্গরা কর্মচারি, করণিক, ভৃত্য বা দাস। ঔপনিবেশিকতার অন্ত ঘটলেও সেই সাদা চামড়ার ভূত মানুষজনের ঘাড় থেকে নামেনি। তবে সাদা চামড়ার লোভ সাহেবরা আসার অনেক আগে থেকেই ছিল, অন্তত ভারতের মতো দেশে, যেখানে উঁচুজাতের মানুষ চেনা যেতো তার গায়ের রঙ দেখে। সব মিলিয়ে এই সাদা-কালোর বর্ণপ্রথা কবে না জানি বিয়ের বাজারে ঢুকে গেছে।

গোড়ায় ‘উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ’, ‘রঙটা একটু চাপা’, এই সব বলে কাজ চালানো গিয়েছিল। পরে এলো ‘স্কিন লাইটেনিং প্রোডাক্টদের’ বাজার। তার আগেই আবার সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের জগতে প্রায় ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশনের মতো যাদের গায়ের রঙ একটু বেশি সাদা, তারাই জায়গা করে নিয়েছেন। পাত্ররা যেমন ফর্সা পাত্রী খোঁজে, তেমনভাবে গোটা সমাজেই সৌন্দর্য ও সাফল্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে-সাদা চামড়া।

পশ্চিমে জাতিবাদের চেহারা একরকম, উপমহাদেশে একরকম, আবার আফ্রিকায় একরকম। মনে রাখতে হবে, ঘানায় স্কিন ব্লিচিং করার প্রসাধন দ্রব্য ব্যবহার করে থাকেন ‘মাত্র’ ৩০ শতাংশ মহিলা।

সে তুলনায় নাইজেরিয়ায় ক্রিম মেখে ফর্সা হবার চেষ্টা করেন শতকরা ৭৭ ভাগ ও সেনেগালে শতকরা ৫২ থেকে ৬৭ ভাগ নারী (ডেজ্ড অ্যান্ড কনফিউজ্ড পত্রিকার পরিসংখ্যান)।

আফ্রিকার এক দরিদ্র দেশ ঘানার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি এবার ঘোষণা করে বসলেন যে, ২০১৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ঘানায় হাইড্রোকুইনোন যুক্ত কোনো ধরনের প্রসাধন বিক্রয় করা নিষেধ। মাত্র দশ বছর আগে পদার্থটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয়, কেননা হাইড্রোকুইনোন ক্যানসার ঘটায় কিনা, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

পদার্থটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ঘানা, একটি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দেশ। ঘানায় হাইড্রোকুইনোন যুক্ত স্কিন ব্লিচিং ক্রিমের ব্যবহার যেমন প্রচলিত, তেমনই কেউ স্বীকার করতে চান না যে, তিনি এই ক্রিম ব্যবহার করেন।

অর্থাৎ আমাদের তালিকায় আরো যোগ হলো লজ্জা আর ভণ্ডামি। সাদা বা ফর্সা হবার লোভ এমনই।-এএফপি/ব্রেকিংনিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ