খেলাধুলা ডেস্ক: জাতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার অভিযোগ করছেন, তাকে তালাক দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সন্তানদের কথা ভেবে তিনি যে কোনো মূল্যে স্বামীর সংসারেই থাকতে চান বলে জানিয়েছেন ঢাকাটাইমসকে।
ঈদের আগে গত ২৩ জুন ফারজানা ও তার দুই সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হলে সমালোচনার মুখে পড়েন শহীদ। কিন্তু তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরপর মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের কাছে ছুটে গিয়েও লাভ হয়নি ফারজানার। আর তার পরামর্শে এবার সংসার বাঁচাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির দারস্থ হতে যাচ্ছেন ফারজানা। দুই এক দিনের মধ্যেই তিনি সেখানে যাবেন বলে জানিয়েছেন গনমাধ্যমকে।
২০১১ সালের ২৪ জুন মুন্সীগঞ্জের মেয়ে ফারজানা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় নারায়ণগঞ্জের ছেলে ক্রিকেটার মোহাম্মদ শহীদের। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে অভিষেক হয় শহীদের। ধীরে ধীরে তারকাখ্যাতি পেতে শুরু করেন তিনি। শহীদের আচরণেও পরিবর্তন চলে আসে বলে জানিয়েছেন শহীদপত্নী।
আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যাটা আসলে কোন জায়গায়?
সাংসার জীবনের শুরুতে আমরা ভালো ছিলাম। কিন্তু সংসারে অশান্তি শুরু হয় ও (মোহাম্মদ শহীদ) জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর। অন্য মেয়েদের প্রতি ওর আকর্ষণ বাড়তে থাকে। আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। আমাদের দ্বিতীয় সন্তান পেটে এলে আমার প্রতি আমার স্বামীর অত্যাচার বেড়ে যায়।
শহীদ কী চেয়েছেন?
সে সবসময় চেয়েছে দ্বিতীয় সন্তান নষ্ট করে ফেলতে। এজন্য ও আমার পেটে লাথিও মেরেছে। কিন্তু আমি নষ্ট করিনি। আমাদের মেয়ের জন্ম হয় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে। হাসপাতালে মোট এক লাখ দশ হাজার টাকা লেগেছিল। কিন্তু ও এক টাকাও দেয়নি। কোনও খোঁজখবরও নেইনি। আমি আমার নিজের স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা পরিশোধ করেছিলাম।
নিজের সন্তানকে কেন নষ্ট করতে চেয়েছেন?
কারণ এই সন্তান মেয়ে। প্রথম ছেলে সন্তানকে শহীদ বেশ আদর করে। তাকে উপহার কিনে দেয়, কিন্তু মেয়েকে কোলে পর্যন্ত নেয়নি এখনও।
গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, শহীদ আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। এটা কি সত্য?
না, আমি এখনও মুন্সীগঞ্জে বাবার বাড়িতে আছি। আমার স্বামী আমার ও আমার বাচ্চাদের কোনও খোঁজ খবর নেয় না। আমাদের বড় ছেলের বয়স প্রায় তিন বছর। মেয়েটার বয়স ১১ মাস। বাচ্চারা সারাদিন বাবা বাবা বলে। বাবার সঙ্গে দেখা করতে চায়, কথা বলতে চায়। আমার স্বামীর পরিবার থেকেও বিষয়টি মীমাংসার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।
শহীদ আসলে এখন তবে কী চাইছেন?
ও মূলত টাকা পয়সা দিয়ে আমাকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি তো এটা চাই না।
আপনি অভিযোগ করেছেন, শ্বশুর বাড়িতে অত্যাচার করা হয়। তার পরেও কেন ওই সংসারে ফিরতে চান?
আমি বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চাই। আমি হয়তো বাচ্চাদের অন্যান্য সবকিছু দিতে পারব। কিন্তু বাবার ভালোবাসা তো আর দিতে পারব না।
আপনি তো স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি কী বলেছেন?
তিনি আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) লিখিত অভিযোগ করতে বলেছেন। আমরা দ্রুতই বিসিবিতে গিয়ে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাব।
স্ত্রীর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্রিকেটার শহীদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সংবাদকর্মীরা। কিন্তু গণমাধ্যমের পরিচয় পাওয়ার পর ওই প্রান্ত থেকে ফোন রেখে দেন তিনি। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।
ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার শহীদ ২০১৫ সালের এপ্রিলে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন। এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচটি টেস্ট ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। টেস্টে পাঁচটি ও টি-টোয়েন্টিতে একটি উইকেট পেয়েছেন। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনও দলে জায়গা হয়নি তার।
সর্বশেষ গত নভেম্বরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেন শহীদ। ইনজুরিতে পড়ায় এরপর আর তার মাঠে ফেরা হয়নি।
ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে এবং এক মেয়ের জনক শহীদ। এর মধ্যে ছেলের বয়স তিন এবং মেয়ের বয়স এক বছরের কিছু কম।
ঢাকাটাইমস