• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে শিমুল আলুর আবাদ

Simul Aluটাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শিমুল আলুর আবাদ। অনেকে এটাকে কাসাবা আলুও বলে। বানিজ্যিকভাবে এ আলুর আবাদ শুরু হওয়ায় বহু কৃষকের কাছে এটি আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
নাতিশীতোষ অঞ্চলের ফসল এটি। আফ্রিকার মন্দাপীড়িত অঞ্চলে এ ফসলের আবাদ বেশি হয়। এ আলুর মধ্যে পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণ বেশি। যা ক্ষুধা নিবারণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। কাসাবা আলু দুই প্রকারের। একটি তেতু কাসাবা, অপরটি মিষ্টি কাসাবা। তবে টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া এলাকায় মিষ্টি কাসাবা আলুই বেশি জনপ্রিয়। মধুপুর গড় অঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন যাবত কাসাবা বা শিমুল আলুর আবাদ করে আসছে। প্রথমে বাড়ির আঙিনায় পরে পরিত্যক্ত জমিতে কাসাবা আলু আবাদ করতেন। পরে এ আলুর আবাদ ছড়িয়ে পড়ে ঘাটাইল, মধুপুর, সখীপুর, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায়।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামের আফাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত শিমুল আলুর আবাদ করেন। দুই দশক আগে ’৯২ সালে স্হানীয় দিনেশ সাংমার বাড়ি থেকে প্রথম ওই এলাকায় ব্যাপকভাবে শিমুল আলু আবাদের পরিকল্পনা শুরু করেন। পাশাপাশি মানুষকে এ আলু আবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। প্রথম বছর শিমুল আলু সিদ্ধ করে স্হানীয় বাজারে বিক্রি করেন। পরে আফাজের সাথে পরিচয় হয় ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ির সাথে। তাদের সহযোগিতায় তিনি ঢাকার বাজারে শিমুল আলু বিক্রি করেন। পাল্টে যেতে থাকে তার অর্থনৈতিক অবস্হা।
আফাজ উদ্দিন বলেন, অল্প খরচে বেশি লাভজনক শিমুল আলুর থেকে অন্য ফসলে নেই। আমি শুনেছি অন্যান্য আলুর তুলনায় এ আলুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেশি। প্রতি একর জমিতে ১৯০ থেকে ২০০ মণ আলু হয়। প্রতি মণ আলুর কুচরা বাজার মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, সিদ্ধিখালী, লক্ষিন্দর, জোরদিঘী, মহিষমারাসহ বিভিন্ন এলাকার চাষীরা সাথী ফসল হিসেবেও শিমুল আলুর আবাদ করছেন। এ গাছ দেখতে অনেকটা শিমুল গাছের মত। উ”চতা ৮ থেকে ১২ ফুট। আলু জন্মায় মাটির নিচে। এ গাছের  শেকড়ই মুলত আলু হিসেবে গণ্য হয়। শিমুল আলু চাষে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। শিমুল আলু গ্লুকোজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। শরর্করা জাতের এ আলু আমাদের দেশের অন্যান্য আলুর বিকল্প হিসেবেও খাওয়া যায়। এ আলুতে রোগের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে।
মহিষমারা গ্রামের চাষী সানোয়ার হোসেন বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে এ আলু মানুষের প্রধান খাদ্য। শিমুল আলু বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো যায়। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজিজ উল্লাহ বলেন, টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া এলাকায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে কাসাবা বা শিমুল আলুর আবাদ করা হয়েছে। দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। ফলনও ভালো। আমরা কৃষকদের সব ধরণের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি ।
 স্বদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ