।। ডা. শেখ নজরুল ইসলাম ।। ৪০ বছরের মধ্যে এবারের রমজানে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রোজা রাখতে হচ্ছে। প্রায় ১৬ ঘন্টা রোজা রাখার কারণে দিনের দীর্ঘ সময় সবরকম পানাহার থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে গরমে স্বাভাবিকের তুলনায় শরীরের পানির চাহিদা একটু বেশিই। এ কারণে দেহে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। তাই রোজায় পানিশূন্যতা রোধে কিছু করণীয় জেনে রাখা ভালো।
- ইফতারি আর সেহরি পর্যন্ত বয়স, ওজন আর উচ্চতা ভেদে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন।
- রোজায় অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার বর্জন করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে পানি শুষে নিয়ে দেহের পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।
- Re-hydrating মিনারেল তথা K+ যুক্ত খাবার সেহরি আর ইফতারে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এসকল খাবার আমাদের দেহ থেকে পানি স্বল্পতা দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এজাতীয় খাবারগুলো হলো খেজুর, আম, কলা ইত্যাদি।
- পানি স্বল্পতা রোধ করতে অবশ্যই সেহরিতে চা-কফি পান করা বর্জন করতে হবে। এজাতীয় পানীয় আমাদের শরীরে di-uretics হিসেবে কাজ করে। ফলে আমাদের দেহের পানির চাহিদা বেড়ে যায়।
- প্রতিদিন অবশ্যই সুষমজাতীয় খাবার খেতে হবে। পুষ্টিকর সুষম খাবার আমাদের শরীর ভালো রাখতে এবং শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
- রোজায় অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার ডায়াবেটিক রোগীর জন্য হুমকি স্বরুপ। তাই এজাতীয় খাবার বর্জন করাই শ্রেয়।
- রমজান মাসে অবশ্যই অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। এজাতীয় খাবার আমাদের পরিপাক ক্রিয়ায় বাঁধা প্রদানের ফলে পেটে গ্যাস্ট্রিক আলসার সৃষ্টি করে।
এরপরও আপনার শারিরীক কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডা. শেখ নজরুল ইসলাম, সভাপতি, বিএমএ, সৈয়দপুর।