• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন |

আফগানদের কাছে হেরে গেলো বিসিবি একাদশ

%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8খেলাধুলা ডেস্ক: লম্বা সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশ। নতুন মৌসুমে টাইগারদের ক্রিকেট দেখার অপেক্ষায় দেশের ক্রিকেটভক্তরা। যেমনটা শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচে ফতুল্লায় ঢল নেমেছিল দর্শকদের। যদিও পড়ন্ত বিকেলে হতাশ হয়েই তাদের গ্যালারি ছাড়তে হয়েছে তাদের। এদিন প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৬৬ রানে হেরেছে বিসিবি একাদশ। জয় দিয়েই বাংলাদেশ সফর শুরু করলো আফগানরা।
ব্যাটে বলে দারুণ দাপুটে পারফরম্যান্স দিয়ে ইমরুল কায়েসের দলকে হারিয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশকে সতর্ক বার্তা দিল আফগানিস্তান। এবার সেই বার্তার অর্থ অনুধাবন করেই নিশ্চয়ই ওয়ানডে সিরিজের ছক কষবেন হাথুরুসিংহে-মাশরাফিরা। শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে ২৩৩ রানে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। জবাবে ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ রানে অলআউট হয় বিসিবি একাদশ।

দীর্ঘদিন বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ওয়ানডে খেলতে নামার ছাপটা স্পষ্ট ছিল বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে। স্বাগতিকদের জন্য ২৩৪ রানের টার্গেটটা দূরহ হয়ে উঠে ৩৯ রানের মধ্যে চার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলে। এনামুল হক বিজয় (৫), ও লিটন দাস (৬) আউট হয়েছেন উইকেট বিলিয়ে। ইমরুল কায়েস (৮) ও সাব্বির রহমান (৯)  শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। পঞ্চম উইকেটে মোসাদ্দেক ও মেহেদী মিরাজ দলের হাল ধরেন। দুই তরুণের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বিসিবি একাদশ।
তাদের ৫৬ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় মিরাজ রানআউট হলে। তিনি ১৫ রান করেন। ওয়ানডে দলে ঠাঁই পাওয়া মোসাদ্দেক দেখিয়েছেন ব্যাট হাতে ফর্মে থাকার স্বরুপটা। ষষ্ঠ উইকেটেও শুভাগত হোমের সঙ্গে ৫৯ রানের গড়েন তিনি। একপ্রান্ত আগলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি ৭২ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পর আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ৩৩তম ওভারে তৃতীয় বলে আমির হামজাকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা ও শেষ বলে মারা চারের মাধ্যমেই নিজের আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। অবশ্য পরের ওভারেই নবীর শিকার হয়েছেন এই তরুণ। ৯৭ বলে ৭৬ রান করেছেন তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছয়ে।
মোসাদ্দেকের লড়াকু ব্যাটিংটা ঢেকে গেছে লোয়ার অর্ডারের ধসে পড়া ব্যাটিংয়ে। শুভাগত হোম ছাড়া কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। শেষ ১৩ রানে ৫ উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। শুভাগত ৩৪ রান করেন। আফগানদের পক্ষে নবী ২৪ রানে ৪টি, ফরিদ আহমেদ ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট পান।
এর আগে ব্যাটিংয়ে মানসিক স্বস্তির অনুসঙ্গ পেয়েছিল আফগানিস্তান। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা সফরকারীদের পক্ষে হাসমতউল্লাহ শাহিদি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। সঙ্গে ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন তিন আফগান ব্যাটসম্যান। দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন আরও তিন ব্যাটসম্যান। তাই নড়বড়ে শুরুর পরও ইনিংস শেষে আফগানিস্তানের স্কোরটা সমীহ জাগানোই ছিল।
৩০ রানেই ওপেনিং জুটি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আফগানিস্তানের। আলাউদ্দিন বাবু, আবু হায়দার রনি ও শুভাশীষ রায়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এক পর্যায়ে ৪৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। উইকেট পতনের ধারা থামান হাসমতউল্লাহ শাহিদি ও অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই। চতুর্থ উইকেটে তারা ৬৩ রান যোগ করেন।  পঞ্চম উইকেটেও হাসমতউল্লাহ-আজগর ৪১ রানের জুটি গড়েন। শেষ দিকেও কয়েকটি ছোট ছোট জুটি গড়তে সমর্থ হয়েছে আফগানরা। হাসমতউল্লাহ ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৯ রান (৫ চার, ১ ছয়) করেন। আজগর ৩১, রশিদ খান ৩০ রান করেন।
তবে আফগানদের স্কোরটা দুশো পার হয়েছিল মিরওয়াইস আশরাফের ১৯ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ক্যামিওতে। ৩টি চার ও ২টি ছয় মারেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। নওরোজ মঙ্গল ১০, শেহজাদ ১৭ ও নবী ১০ রান করেন। বিসিবি একাদশের পক্ষে আলাউদ্দিন বাবু ও মেহেদী মিরাজ ৩টি করে, আবু হায়দার রনি ও শুভাশীষ রায় ২টি করে উইকেট পান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ