• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন |

লঙ্কানদের ৩২৫ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক: ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সিংহলিদের নির্ধারিত ওভারে ৩২৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে টাইগারেরা।

ভালোই করেছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে বেশিদূর আগাতে পারেননি সৌম্য। ব্যক্তিগত ১০ রানের মাথায় সুরঙ্গ লাকমলের বলে উইকেটের পেছনে চান্দিমালের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তিনি। ১৩ বলের ইনিংসে সৌম্য হাঁকিয়েছেন দুটি চার।
লাকমলের ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে নতুন কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসাবে তিন ফরম্যাটে স্পর্শ করেছেন দশ হাজার রানের মাইলফলক। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে তামিমের মোট রান ছিল ৯৯৯৯। ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক তুলি নিয়েছেন।

তামিম ও সাব্বির রহমান জুটিতে দুরন্তই চলছিল। ১৬.৪ ওভারের মাথায় সান্দাকানের বলে এলবিডব্লিউর জোড়ালো আবেদনে সাব্বিরকে আউট দেন ইংলিশ আম্পায়ার। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন সাব্বির। পরে দেখা যায় সাব্বিরের ধারণাই সঠিক।

এলবিডব্লিউর ধারের কাছেই ছিল না তা। বল ব্যাটে লেগে চলে গেছে। পায়ের খুব কাছাকাছি থাকায় মনে হয়েছিল লেগবিফোর। তবে রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান সাব্বির। সাব্বিরের তখন ব্যক্তিগত রান ৪২।

এরপর কাঙ্খিত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি পূর্ণ করেন সাব্বির। তারপরই ছন্দপতন। তামিম-সাব্বিরের ৯০ রানের জুটি ভাঙেন গুনারত্নে। ২১.৩ ওভারে গুণারত্নের বলে সাব্বির ক্যাচ দেন উপল থারাঙ্গার হাতে। যদিও ক্যাচটি ছিল অসাধারণ। ৫৬ বলে ১০ চারে ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির।

সাব্বিরের বিদায়ের পর তামিমের সঙ্গে জুটি বাধেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৩তম ওভারের সান্দাকানের বলে তার হাতেই ক্যাচ দেন মুশফিক। ২ বলে এক রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৩ উইকেটে ১২০।

এরপর সাকিবকে নিয়ে আগাতে থাকেন তামিম ইকবাল। এরই মধ্যে পূর্ণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি। এরপর সেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছেন তামিম। ১২৭ বলে ১২ চারে ১০০ রান পূর্ণ করেন তামিম। যার মধ্যে ছিল ১২টি চারের মার। ছক্কা নেই একটিও। দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১২৭ রানে তামিম ইকবাল আউট হন। লং অনে তার ক্যাচটি ধরেন গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন লাহিরু কুমারা।

ব্যাট হাতে ঝলক দেখাচ্ছেন সাকিব আল হাসানও। তিনি পৌঁছে গেলেন হাফ সেঞ্চুরির মার্কে। ৬১ বলে ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সাকিব। এরপর ৭১ বলে ৭২ রান করে আউট হয়ে যান সাকিব।

থিসারা পেরেরার বলে ৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলকে শট ফাইন লেগে ঠেলে দিয়েই হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটা আবার সাকিব আল হাসানের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি।

মুশফিক আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন সাকিব। জুটি বাধেন তামিম ইকবালের সঙ্গে। এ দু’জনের শতোর্ধ্ব জুটির ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৪৪ রানে ভাঙে দু’জনের জুটি। সাকিবের ইনিংস সাজানো ছিল ৪টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কায়। ৭২ রান করে ফিরে যান সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ডানহাতি এই অলরাউন্ডারের।

তিন পেসার ও দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। পেস অ্যাটাকে মাশরাফির সঙ্গী তাসকিন ও মুস্তাফিজ। স্পিনে সাকিবের সাগরেদ অভিষিক্ত মিরাজ।

বাংলাদেশ দল:

১. তামিম ইকবাল ২. সৌম্য সরকার ৩. সাব্বির রহমান ৪. মুশফিকুর রহিম ৫. সাকিব আল হাসান ৬. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৭. মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৮. মেহেদি হাসান মিরাজ ৯. মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক) ১০. তাসকিন আহমেদ ১১. মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা দল:

১. ধানুসকা গুণাথিলাকা ২. উপুল থারাঙ্গা ৩. কুশল মেন্ডিস ৪. দিনেশ চান্ডিমাল ৫. আসেলা গুণারত্মে ৬. সতিথ পাথিরানা ৭. তিসারো পেরেরা ৮. সুরঙ্গা লাকমল ৯. লক্ষণ সান্দাকা ১০. মিলিন্দা সিরিওয়ারদানা ১১. লাহিরু কুমারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ